শাহীন আরাফাত শুভ :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের দড়িভেলানগর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় আল মনোয়ারা আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম শুরু হয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের মহান উদ্দেশ্যে এ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মাইজপাড়া মাহমুদন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদ্রাসাটির উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: বাবুল মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবুল মিয়া বলেন, “দড়িভেলানগর গ্রামের মতো একটি প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের জন্য এমন একটি যুগোপযোগী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই মাদ্রাসার মাধ্যমে এখানকার নারী শিক্ষার্থীরা কেবল কোরআন ও হাদিসভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার আলোয়ও আলোকিত হওয়ার সুযোগ পাবে। দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত একজন নারী মানেই একটি আদর্শ পরিবার, একটি নৈতিক সমাজ এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনের শক্ত ভিত। ভবিষ্যতে এখান থেকে গড়ে উঠবে এমন সব শিক্ষার্থী, যারা একজন আদর্শ মা, সচেতন নাগরিক ও দ্বীনদার মানুষ হিসেবে সমাজে অবদান রাখবে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক ডিজিএম মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম চৌধুরী, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন, শাহ রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম, শাহ রাহাত আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দারুস সালাম কাজল, সাংবাদিক এম এ আউয়ালসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, নারী শিক্ষার বিকাশ ছাড়া সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের দ্বীনি চাহিদা পূরণে আল মনোয়ারা আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাদ্রাসাটিতে নূরানী, নাজেরাষার্থীদের জন্য আরবি, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকবে। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষিকাদের মাধ্যমে সুন্নাতে নববীর অনুশীলনভিত্তিক পাঠদান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং নিয়মিত মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা হবে। বিশেষভাবে অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান কর্তৃপক্ষ।
মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন, মোহাম্মদ হেলাল এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মোহাম্মদ আবুল বাশার বাদশা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, অভিভাবক ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply